Home » প্রবন্ধ » বিশ্বের সকল মানুষের প্রতি রোহিঙ্গাদের রক্তভেজা ঈদের শুভেচ্ছা !

বিশ্বের সকল মানুষের প্রতি রোহিঙ্গাদের রক্তভেজা ঈদের শুভেচ্ছা !

সম্পাদকের কলম থেকে : 

আগামীকাল পবিত্র ঈদুল আযহা । মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব হলেও, সংকটময় মূহুর্তে কাল ঈদ উৎযাপনের বিষয়টি অনেক রোহিঙ্গারই জানা না থাকাটাই স্বাভাবিক । যেখানে বাঁচা মরার সন্ধিক্ষণে প্রতিটি মূহুর্ত তাদের আতংকে কাটাতে হচ্ছে, সেখানে ঈদ উৎযাপনের প্রশ্ন অবান্তর । দেশের কোটিপতি রোহিঙ্গারাও আজ বাংলাদেশের ভিখারিতে পরিণত হয়েছে । যাদের বিঘা বিঘা ধন সম্পদ আর অর্থপ্রতিপত্তি ছিল, তারা সেনা তান্ডবে সব হারিয়ে বাংলাদেশে খাবার রান্নার জন্য একটি পাত্র কিনতেও সামর্থবান নয় ।

সবই নিয়তি । স্বদেশে দীর্ঘকাল পরবাসী হিসেবে থাকা এ জাতির সংকট উত্তোরণে  বিশ্বের কোন পক্ষই আন্তরিক নয় । জাতিগোষ্ঠিটি মুসলমান হওয়ার কারনে তাদের উপর সংঘটিত বর্বরতা এখন দেখেনা পশ্চিমা বিশ্ব, শুনেনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় । বার্মায় জান্তা সরকার ক্ষমতা আরোহনের পর থেকে আজ অব্দি ৫৯ বছরের ইতিহাসে কূটনৈতিক সমাধানে রোহিঙ্গার কোন একটি বিষয়ও সমাধান হয়নি, বরং দেশে দেশে যাযাবর জাতি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে । অভাবের তাড়না নিঃশেষ করার লোভ দেখিয়ে  অপরাধের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে রোহিঙ্গাদের। চারিদিকে শুধু ধিক্কার, ধূর, ধূর, ছেঃ ছেঃ এসব শুনতে হয়েছে ।

রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার, মৌলিক অধিকার, সামাজিক অধিকার, অর্থনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে রাখলেও মুসলিম-অমুসলিম কোন জোটই এটি সমাধানের পথে আগায়নি । বরং ত্রাণ ও সেবা দিয়ে শরণার্থী করে রেখেছে । রোহিঙ্গারা ত্রাণ চাইনা, অধিকার চাই । ভাগ্য বিড়ম্বিত হয়ে থাকতে চাইনা, ভাগ্য গড়তে চাই । কাউকে হত্যা করতে চাইনা, বন্ধুত্ব চাই । কিন্তু বিশ্বের প্রতারণার শিকার এ নিঃস্ব জাতির ভাগ্য উন্নয়নে কেউ পাশে থাকেনি । নিজেদের ভাগ্য ও অধিকার নিজেদের ঠিক করার জন্য পরামর্শ দেয়া হয় ।

এক রোহিঙ্গাকে গলাকাটা লাশ – সাম্প্রতিক ছবি

আজ যখন নিজের মা-বোনের সম্ভ্রম রক্ষার্তে, রোহিঙ্গা জাতির অধিকার ফিরিয়ে পেতে, দীর্ঘকালের অন্যায় শাসন ও শোষনের শৃংখল থেকে মুক্ত হতে সরকারের বিরুদ্ধে স্বাধিকার আন্দোলন দানা বাঁধতে শুরু করেছে , ঠিক তখনই বিশ্ব সম্প্রদায়ের মুখের বুলি পাল্টে গেল । রোহিঙ্গারা হয়ে গেল কারো কাছে বিদ্রোহী, কারো কাছে জঙ্গি আবার কারো কাছে সন্ত্রাসী ! কি আজব বিশ্ব দরবার !

দেয়ালে যখন পিঠ ঠেকে যায়,  যখন কেউ গলাটিপে কাউকে হত্যা করতে চাই, তখন সে দূর্বল ব্যক্তি হলেও বাঁচার জন্য একটু চেষ্টা করবে । হাত পা ছুটাছুটি করবে । আজ রোহিঙ্গারাও তাই করছে ।  বেঁচে থাকার দৃপ্ত শপথ নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলছে । মৃত্যু যখন অবধারিত তখন বীরের মত মরি, এমন সংকল্পবদ্ধ হয়েছে । ।

গত ২৪ আগস্ট থেকে আরাকান রাজ্যে সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা বিরোধী কিলিং অপারেশন শুরু  করে । রোহিঙ্গাদের উপর নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ, গণধর্ষন ও গ্রামের পর গ্রাম অগ্নিসংযোগ করেছে । প্রকাশ্যে পাখি শিকারের মত গুলি করে মারছে । মায়ের সামনে মেয়েকে, মেয়ের সামনে মাকে, স্বামীর সামনে স্ত্রীকে ধর্ষণ করে নির্বিচারে হত্যা করছে । মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়ে ৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে । যখন এ সম্পাদকীয় লিখছি তখনও বুথিদং এর ৭টি রোহিঙ্গা পল্লী দাউ দাউ করে জ্বলছে ।   

প্রাণ বাঁচাতে ইতিমধ্যে ৫০ হাজারের বেশী মানুষ সীমান্তে মানবেতর সময় কাটাচ্ছে । এক মুঠো খাবারের জন্য সেখানে হাহাকার অবস্থা । নেই খাবার পানিটুকুও । কেউ তাবু পেয়েছে আবার কেউ খোলা আকাশের নিচে কখনো বৃষ্টিতে ভিজছে আবার কখনো রোদে পুড়ছে । জোক-পুক, মশা-মাছির উপদ্রব হলেও, অভ্যাসে পরিণত করে নিচ্ছে ।

অনেকের শরীর থেকে এখনো রক্তের দাগ শুকায়নি । ভাইয়ের রক্ত, বোনের রক্ত, প্রতিবশীর রক্ত, মায়ের রক্ত, মেয়ের রক্ত কিংবা বাবার রক্তের দাগ এখনো প্রতিয়মান রোহিঙ্গা শরণার্থীদের গায়ে । বর্মী সৈন্যেরা যখন মুসলমানের রক্ত নিয়ে হোলি খেলছে, এমন সময়ে পালিত হচ্ছে ঈদুল আযহা বা কুরবানের ঈদ । ঈদ মানে হাসিখুশি হলেও, সে হাসি খুশি রোহিঙ্গাদের নেই ।

ঈদের নামাজ শেষে বিশ্বের মুসলমানেরা পশু কুরবান করবে । কিন্তু রোহিঙ্গারা কি করবে তাই তো ভাবছেন? রোহিঙ্গারা পশু কুরবান নয় জান কুরবান দিচ্ছে আল্লাহর নামে ।

পরিশেষ, সীমান্তের মানুষগুলো যাতে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারে তার নূন্যতম ব্যবস্থা করে দেয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করেছে । আশাকরি, বাংলাদেশ সরকার এর বিহিত ব্যবস্থা নিতে কার্পণ্য করবেনা । বিশ্বের সকল মানুষের প্রতি আরাকান টিভি’র পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের রক্তে ভেজা ঈদের শুভেচ্ছা , ঈদ মোবারক

facebook comments

আরো দেখুন

রোহিঙ্গাদেরকে বাংলাদেশে মগজ ধোলাই করা হচ্ছে’

  অনলাইন ডেস্ক, আরাকান টিভিঃ বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে অবস্থানরত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *