Home » প্রবন্ধ » চীন-বার্মার বলয়ে ফাটল ধরাতে বার্মার সাথে সম্পর্ক তৈরীতে উম্মোখ ভারত

চীন-বার্মার বলয়ে ফাটল ধরাতে বার্মার সাথে সম্পর্ক তৈরীতে উম্মোখ ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

সাম্প্রতিক সময়ে আরাকানের  রোহিঙ্গাদের উপর বর্মী সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন ও গণহত্যার বিষয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের মাঝে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বার্মা সফর করেন । মোদীর বার্মা সফরের আগে থেকে ভারত সরকার রোহিঙ্গা বিরোধী কথাবার্তা শুরু করে । ভারতের জুনিয়র স্বরাষ্ট্র বিষয়ক বৌদ্ধধর্মালম্বী  মন্ত্রী কিরেন রিজুজু বার্মা সফরের পর থেকে রোহিঙ্গাদের ভারত থেকে বের করে দিতে গুঞ্জন ওঠে । পরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপে তা ক্ষান্ত হয় ।

কিরেন রিজুজু ঘোষণা করেন, ভারতে বসবাসরত ৪০ হাজার রোহিঙ্গার সবাইকে বহিষ্কার করা হবে। যদিও ভারতে রোহিঙ্গাদের মধ্যে ১৬০০০ জাতিসংঘ নিবন্ধিত শরণার্থী, তবুও রিজুজু বলেন, “জাতিসংঘের নিবন্ধনের কোনো অর্থ নেই। আমাদের কাছে ওরা সবাই অবৈধ।”

কলকাতায় বিবিসির সাবেক সাংবাদিক সুবীর ভৌমিক, যিনি বর্তমানে বার্মার ইয়াঙ্গুনে রয়েছেন, তিনি বলছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদীর সফরের ঠিক আগে দিল্লির পক্ষ থেকে এসব বক্তব্য বিবৃতির মূল্য উদ্দেশ্য বৌদ্ধ অধ্যুষিত বার্মার সাথে অধিকতর ঘনিষ্ঠতা।

সংখ্যাগরিষ্ঠ বার্মিজদের রোহিঙ্গা বিরোধী কট্টর মনোভাবের সাথে একাত্ম হতে চাইছে ভারত। ভৌমিক বলছেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে চীনের মৌনতার সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছে বিজেপি সরকার।

ভারতের মনিপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মিয়ানমার স্টাডি সেন্টারের অধ্যাপক জিতেন নংথাওবামকে উদ্ধৃত করে সুবীর ভৌমিক বলছেন – “মুসলিমদের প্রশ্নে বার্মিজ জাতীয়তাবাদী এবং কট্টর বৌদ্ধরা মোদি এবং তার দল বিজেপির সাথে একাত্ম বোধ করে।”
ভারত যে সম্প্রতি বিশেষ অভিযানের জন্য বার্মার সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেয়ার কথা বলেছেন, সেটাকেও দেখা হচ্ছে রোহিঙ্গা আত্মরক্ষীদের বিরুদ্ধে বার্মা সেনা অভিযানের প্রতি দিল্লির সমর্থন হিসাবে।

ভৌমিক বলছেন, বার্মার সেনাবাহিনীর সাথে ভারত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরিতে উন্মুখ ।  কারন, ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোতে বিদ্রোহী তৎপরতায় লিপ্ত যোদ্ধাদের অনেকেই বার্মার জঙ্গলে গিয়ে আশ্রয় নেয়। ফলে তাদের শায়েস্তা করতে বার্মার সেনাবাহিনীর সহযোগিতা ভারতের প্রয়োজন।
বার্মা- ভারত এখন কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পের সাথে যুক্ত। আরাকান রাজ্যেই ভারত একটি বন্দর এবং নদীপথ প্রকল্পে জড়িত। ভারতের মিজোরাম এবং আরাকান রাজ্যের মধ্যে একটি সড়ক নির্মাণেও ভারত জড়িত।
সুবীর ভৌমিক বলছেন, ভারতের মূল উদ্দেশ্য বার্মার চীনের প্রভাব বলয়ে ফাটল ধরানো। চীনের সাথে বার্মার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কটা নষ্ট করতে পারলে, বার্মাকে নেপালের মত করে ব্যবহার করতে পারবে ভারত সরকার । তাই, রোহিঙ্গাদের উপর যে অমানিবক নির্যাতন হচ্ছে তা দেখেও এখন দেখছেনা ভারত, শুনছেনা মোদী । নিজ স্বার্থের সামনে মানবিকতা প্রশ্ন দাঁড় করাতে চাইনা ভারত সরকার ।

বার্মা সফরে নরেন্দ্র মোদি বাগান এলাকায় ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত একটি প্যাগোডা দেখতে যাবেন। এই প্যাগোডাটি ভারত সংস্কার করে দিচ্ছে। স্থানীয় স্টেডিয়ামে তিনি একটি জনসভাতেও ভাষণ দেবন।
সম্ভাব্য উদ্দেশ্য – ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক ভাবাবেগ ব্যবহার করে বার্মিজ জাতীয়তাবাদীদের সাথে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা।

আরো দেখুন

রোহিঙ্গা পুনর্বাসনে ৮০০ কোটি টাকার সহায়তা দিচ্ছে এডিবি

ঢাকা, আরাকান টিভি: প্রতিবেশী দেশ বার্মা থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জন্য ৮০০ কোটি টাকার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *