Home » প্রবন্ধ » গণহত্যার জ্বলন্ত উদাহরণ আরাকান !

গণহত্যার জ্বলন্ত উদাহরণ আরাকান !

শাহজালাল : 

“বৌদ্ধ কী খ্রিষ্টান

বেঁচে থাকার অধিকার

সবার সমান”

কিন্তু আরকানে রোহিঙ্গা মুসলমানদের  বেঁচে থাকার অধিকার সমান নয়।যুগ যুগ ধরে তারা বার্মার সামরিক সরকারের হাতে নিপিড়িত নির্যাতিত হয়ে আসছে ।বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে রোহিঙ্গাদের উপর বর্বরতা চালিয়ে যাচ্ছি মিলিটারি।  বিশ্বে সবচেয়ে বেশি নিগৃহীত জাতী রোহিঙ্গারা। নির্যাতন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে লাখ লাখ রোহিঙ্গা।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ নিরস্ত ঘুমন্ত বাঙ্গালিদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাক হানাদার বাহিনী।  গণহত্যা শুরু করে, তেমনি ভাবে বার্মার মিলিটারি ২০১৭ সালের   ২৫ আগস্ট নিরস্ত্র, অসহায়, সহজসরল রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে,মেতে উঠে গণহত্যায়। আমার কাছে মনে হয় ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের সেই গণহত্যা ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট শুরু হয়েছে রোহিঙ্গাদের উপর।

গণহত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ,   ধর্ষণ থেকে বাঁচতে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে পাড়িয়ে জমিয়েছে হাজার হাজার লাখ লাখ রোহিঙ্গা মুসলমান। মা সন্তান হারিয়ে, সন্তান মা হারিয়ে, সন্তানরা নিজের পিতামাতাকে ঝুড়ি করে গন্তব্যহীন পথে যাত্রা শুরু করে।

নদী পথে, পাহাড় পথে, অনেকেই পথ হারিয়ে বনে বনে, পথের সন্ধান খুঁজে। দূর্গম পাহাড়ি পথ, ভয়ানক বন্য প্রাণ,হাতি, বাঘ, ভাল্লুক, বিষাক্ত শাপ সবচেয়ে বেশি ভয় মিলিটারির।

পাহাড়ের ঢালুতে মস্তকহীন শরীর, মাথার স্তুপ, গাছের সাথে ঝুলানো লাশ। ভয়ে অনেক শিশু মূর্চা গেছে। হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন দূর্বল চিত্তের অনেক মানুষ।  প্রকট আকার ধারণ করেছে খাদ্য সংকট।পাহাড়ি পথে খাবার সংকট, ভয়ানক পথ, একটু একদিক ওদিক হলে পা পিছলে পাহাড় থেকে নিচে নিশ্চিত মৃত্যু।

রোদ ঝড় বৃষ্টিতে  কত কষ্টে মা তার শিশুকে, পিতা সন্তানকে, ভাই তার ছোটভাইবোনকে, সন্তান পিতামাতাকে নিয়ে পথ পাড়ি দিচ্ছে।

সদ্য কথা বলতে পারা শিশু যখন পিতাকে প্রশ্ন করে, ” বাপজান আর কতদূর? ”  বৃষ্টির জলে চোখেরজল মিশে যায় পিতার। নরম স্বরে বলে, “এইতো আরেকটা হাটলেই।” আর কতটা পথ হাটলে নিরাপদ আশ্রয়? পিতা এইভাবে মিথ্যে অাশ্বাস দিয়ে চলেছে। খুঁজ করে চলেছে নিরাপদ আশ্রয়।

পিতাও জানেনা আর কতদূর। অনেকে নিরাপদ গন্তব্যে পৌছাতে পারবে, এক মুঠো খাবার, থাকার জায়গা, বেঁচে  থাকার স্বপ্ন দেখবে। অনেকে পথেই মারা পড়বে। বিষাক্ত শাপের ছোবলে, বাঘ ভাল্লুকের স্বীকারে পরিণত হবে।

ক্ষুধার্ত শিশু যখন মায়ের কাছে খাবার চাই। মা নিরুপায়, বাধ্য হয়ে গাছের লতাপাতা খেতে দেয় সন্তানকে।অবুঝ শিশু না খেয়ে কেঁদে উঠে, রাগ করে মায়ের সাথে। মায়ের কি করার থাকে তখন? বুঝায় ছেলেকে, “শাকসবজি খেলে শক্তি বাড়ে,  তুর পিতাকে, ভাই, বোন, আত্মীয়স্বজনকে যারা খুন করেছে, যারা ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে, তাদের উপর প্রতিশোধ নিতে পারবি।”

অবুঝ  সন্তান খেতে থাকে, শক্তি বাড়ানোর জন্য, বেঁচে থাকার জন্য, প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য,। খেতে গিয়ে প্রশ্ন করে, ” কাঁচা খাওয়া যায়না, রান্না করে দাও” দূর্গম পাহাড়ে যেখানে বেঁচে  থাকা দুঃসাধ্য  সেখানে রান্না! অবুঝ সন্তানের আবদার বন্ধুর পথে হারিয়ে যায়। মুখে খাবার তুলে দেওয়ার সু্যোগ নেই। লতাপাতা খেয়ে ক’দিন আর বাঁচা যায়। খেতে না পেয়ে দূর্গম পাহাড় পাড়ি দিতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। অসুস্থতা একসময় মৃত্যুর দুয়ারে নিয়ে যায়। দূর্গম পথ  পাড়ি দিয়ে অনেকে আশ্রয় পেয়েছে বাংলাদেশে। অনেকে মাঝপথে, অনেকে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে গিয়ে দূর্গম পাহাড়ে মারা গেছে। তারা নিরপদে পৌছে গেছে পরপারে।

আরাকান এখন এক জ্বলন্ত উদাহরণের নাম । পাঠ্যবইয়ে গণহত্যার উদাহরণ প্রয়োগ করতে আরাকানের চেয়ে যথার্থ উদাহরণ আর হবেনা । 

 

আরো দেখুন

রোহিঙ্গা পুনর্বাসনে ৮০০ কোটি টাকার সহায়তা দিচ্ছে এডিবি

ঢাকা, আরাকান টিভি: প্রতিবেশী দেশ বার্মা থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জন্য ৮০০ কোটি টাকার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *