Home » সংবাদ » বার্মার খবর » রোহিঙ্গা গ্রাম পোড়ানোর নতুন প্রমাণঃ অ্যামনেস্টির   

রোহিঙ্গা গ্রাম পোড়ানোর নতুন প্রমাণঃ অ্যামনেস্টির   

অনলাইন ডেস্কঃ আরাকান টিভি।

বার্মায় রোহিঙ্গাদের গ্রাম পোড়ানোর স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পাওয়া ছবি প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি বলছে, এতে প্রমাণ হয় বার্মা সুপরিকল্পিতভাবে এই অভিযান চালাচ্ছে।

অ্যামনেস্টি বলছে, এটি প্রমাণিত যে, বার্মার নিরাপত্তাবাহিনী সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের সেদেশ থেকে বিতাড়িত করার চেষ্টা করছে। অবশ্য বার্মার সেনাবাহিনী বলছে, তারা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। বেসামরিক নাগরিকদের অভিযানের লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি তারা অস্বীকার করেছে।

গত ২৫ আগস্ট থেকে এই পর্যন্ত ৩ লাখ ৮৯ হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

বার্মার সরকার জানিয়েছে, আরাকান রাজ্যের কমপক্ষে ৩০ শতাংশ রোহিঙ্গা-অধ্যুষিত গ্রাম এখন জনশূন্য।

রোহিঙ্গারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম বার্মায় বসবাস করছে। তবে তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হয়নি। সাম্প্রতিক এই সংকটের কারণে বার্মা আন্তর্জাতিক নিন্দার সম্মুখীন হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন লন্ডনে গতকাল বৃহস্পতিবার বলেছেন, এই সহিংসতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, রোহিঙ্গারা মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে। গ্রামবাসীদের ওপর হামলা অগ্রহণযোগ্য। সহিংসতা বন্ধে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টও আরাকানে অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ করতে বলেছে বার্মাকে। আরাকানে মানবাধিকার সুরক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগে বার্মার নেত্রী অং সান সু চির পুরস্কার ফিরিয়ে নেওয়া উচিত কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা। বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে সু চির নোবেল পুরস্কার নিয়েও।

অ্যামনেস্টির নতুন প্রতিবেদনে কী রয়েছে?
অ্যামনেস্টি বলছে, অগ্নিসংযোগের তথ্য, স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পাওয়া ছবি, তোলা ছবি, ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তারা নতুন তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে। এসব থেকে প্রমাণ হয় প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে বার্মার রোহিঙ্গাদের গ্রামকে লক্ষ্যবস্তু করে পরিকল্পিত অভিযান ও অগ্নিসংযোগ চালিয়েছে।

অ্যামনেস্টির ক্রাইসিস রেসপন্স ডিরেক্টর তিরানা হাসান বলেন, এসব তথ্যপ্রমাণ অকাট্য। রোহিঙ্গাদের দেশ থেকে তাড়াতেই বার্মার সেনাবাহিনী আরাকানে অভিযান চালাচ্ছে। নিঃসন্দেহে এটি জাতিগত নির্মূল অভিযান।

অ্যামনেস্টি আরও বলেছে, নিরাপত্তাবাহিনী গ্রামকে ঘিরে রাখে, পালানোর সময় মানুষকে গুলি করে, তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়—এসবই মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।

২৫ আগস্টের পর থেকে রোহিঙ্গাদের বসবাসরত এলাকায় কমপক্ষে ৮০টি বড় ধরনের অগ্নিসংযোগের ঘটনা শনাক্ত করেছে অ্যামনেস্টি। গত চার বছরে এত প্রকটভাবে অগ্নিসংযোগের ঘটনা আর ঘটেনি।

বার্মার স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির দপ্তরের মুখপাত্র জ তের বরাত দিয়ে বার্মা টাইমস জানায়, বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে বার্মার অভ্যন্তরে নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে সেদেশের সরকার। বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রস্তাব দিয়েছিল। বার্মার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চি বার্মার আরাকান রাজ্যের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আগামী সপ্তাহে ভাষণ দেবেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। জাতির উদ্দেশে দেওয়া তাঁর ভাষণ টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হবে।

আরো দেখুন

বার্মিজ সেনাপ্রধানের বিচারের দাবি ব্রিটিশ এমপিদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরাকান টিভি :  রোহিঙ্গা গণহত্যার দায়ে বার্মার সেনাপ্রধানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মুখোমুখি করার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *