Home » Breaking News » স্বদেশে  ফিরতে চাই রোহিঙ্গারা, তবে… !

স্বদেশে  ফিরতে চাই রোহিঙ্গারা, তবে… !

ইউছুফ জালাল, আরাকান টিভি : 

বার্মার আরাকান প্রদেশের আদি বাসিন্দা দু’টির অন্যতম হল রোহিঙ্গা সম্প্রদায় । অল্পে তুষ্ট এ জাতিসত্তার মানুষগুলো দু’বেলা দু’মুঠো খেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে চাই ।

কিন্তু ১৯৪৮ সালে  বার্মা স্বাধীনতা লাভের পর থেকে বর্মী বৌদ্ধ সরকার বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করে আসছে রোহিঙ্গাদের। ২৫ বার বড় বড় অভিযান চালিয়ে বর্মী সরকার ও সরকারি বাহিনী উৎখাত করার চেষ্টা করছে এ মুসলিম জাতিগোষ্ঠীকে । গণহত্যা, ধর্ষণ, লুন্ঠন, চাঁদাবাজী, আটক বাণিজ্য, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, বিনা পারিশ্রমিকে শ্রম আদায়সহ উচ্ছেদের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের উপর অমানষিক নীপিড়ন চালিয়েছে হানাদার বাহিনী ।

রোহিঙ্গারা অনেকবার বর্মী  বাহিনীর গণহত্যা থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে । প্রত্যাবসান হয়েছে অনেকে । বিশেষকরে ৯২ সালের পর হাজার হাজার রোহিঙ্গা বার্মায় প্রত্যাবসান হয় ।

রোহিঙ্গারা ৭৮ সাল থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নিলেও ২০১৭ সালের ২৫ আগষ্টের পর থেকে এমন রোহিঙ্গার ঢল কখনও চোখে পড়েনি । একে দু’য়ে নয় একেবারে পাঁচ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা গত দেড় মাসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে । এখনো আসছে ।

বর্মী বাহিনীর নৃশংসতা থেকে প্রাণ বাঁচাতে আশ্রয় সন্ধানী রোহিঙ্গারা পাহাড়ে, বনে-জঙ্গলে, রাস্তারধারে,  নদীর পাড়ে ও ত্রিপলের ছাউনীর নিচে গাদাগাদি করে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে দিনাতিপাত করছে ।

বার্মায় যাদের গোয়ালভরা গরু, গোলাভরা ধান, দীঘি ভর্তি মাছ ও বড় বড় কাঠের কুঠির ছিল আজ তারা বাংলাদেশে রিক্ত হস্ত । বলা যায় ওয়াক্তের ফকির । ত্রাণই তাদের একমাত্র ভরসা । এ মানবেত অবস্থায় তারা কেউ থাকতে চাইনা । ফিরে যেতে চাই স্বদেশে । তবে ফিরে যাওয়ার পূর্ব শর্তও রয়েছে রোহিঙ্গাদের ।

কতুপালং ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা মৌলভি জলিলুর রহমান বলেন, “একজন নাগরিকের যে সকল অধিকার পাওয়ার কথা, সেসব অধিকার আমাদেরকে দিলে আমরা ফিরে যাবো ।“

মংডু কাইন্দাপাড়ার আবু তাহের বলেন, “আমাদের নাগরিক অধিকার এবং নিরাপত্তা, পুড়িয়ে দেওয়া ঘরবাড়ির  ক্ষতিপূরণ ও জমি-জামা কাগজে কলমে লিখে  ফিরিয়ে দিলে ফিরে যাবো ।”

মংডুর ইয়াসমিন, তার পিতাকে খুন করেছে মিলিটারি।  ইয়াসমিন বলেন, “লেখাপড়ার করার অধিকার। পড়ালেখা শেষ করে চাকরি করার অধিকার এবং জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করলে আমরা বার্মায় ফিরে যেতে রাজী” ।

শীলখালীর আয়েশা জানান, তার কোন শর্ত কিংবা দাবি নেই। শুধু  স্বামী সংসার সন্তান নিয়ে দু’বেলা দু’মুটো খাবার খেয়ে বাঁচতে পারলে হয়।

সহজ সরল রোহিঙ্গাদের কোন উচ্চ বিলাশ ও উচ্চ চাহিদা নেই । শুধুমাত্র বাঁচার স্বপ্ন দেখে তারা। সাধারণ অধিকার সমূহ রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থেকে নিম্নপর্যায়ের সকলের জন্য সমান। কিন্তু রোহিঙ্গা জাতী বার্মার আদি বাসিন্দা হলেও কৌশলে তাদের নাগরিক অধিকারসহ সকল অধিকার ছিনিয়ে নেয় বার্মা সরকার । তাদেরকে এক প্রকার বন্দি জীবনে আবদ্ধ রাখে প্রশাসন ।

সাম্প্রতি পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য এবং গণহত্যা  বন্ধের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বার্মা সরকারকে চাপ দিচ্ছে । সে চাপমুক্ত হতে বার্মার সরকার বাধ্য হয়ে বাংলাদেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার কথা উল্লেখ করেন। কিন্তু সময় গড়ানোর সাথে সাথে বার্মা নীরব হয়ে যান ।  রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস  দিলেও গণহত্যা, লুন্ঠন, অগ্নিসংযোগ বন্ধ করেনি বর্মী প্রশাসন। গতকালও প্রায় ১০ হাজার রোহিঙ্গা বুথিদং এলাকা থেকে বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে । এখনো নাফ নদীর পাড়ে ২৫ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় সন্ধান করছে ।

আশ্রিত রোহিঙ্গাদের ব্যথিত করছে শরণার্থী জীবনের কষ্ট। কিন্তু  মিলিটারির তাণ্ডবের কথা মনে হলে শরণার্থী জীবনের কষ্ট স্বর্গীয় সুখের সাথে মিলিয়ে নেন তারা ।

এক রোহিঙ্গা জানান,  ১৯৭৮ এবং ১৯৯২ সালে  নির্যাতন বন্ধ করবে  মর্মে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়েছিলো সরকার। কিন্তু নেওয়ার পর নির্যাতনের মাত্রা দ্বিগুণ করেছে । এবারেওফিরিয়ে নিয়ে সাইলেন্ট কিলিং করে রোহিঙ্গা  নির্মূল  করবে বলে আশঙ্কা তাদের ।

পরিশেষে, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার আগে কিভাবে ফিরিয়ে নিবে তা আলোচনা হোক । রোহিঙ্গাদের নিঃশর্ত নাগরিকত্ব প্রদান সময়ের দাবি ।

আরো দেখুন

বার্মিজ সেনাপ্রধানের বিচারের দাবি ব্রিটিশ এমপিদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরাকান টিভি :  রোহিঙ্গা গণহত্যার দায়ে বার্মার সেনাপ্রধানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মুখোমুখি করার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *