Home » প্রবন্ধ » নমনীয় হচ্ছেনা বার্মিজ মিলিটারী !

নমনীয় হচ্ছেনা বার্মিজ মিলিটারী !

আজিজুল হক, আরাকান টিভিঃ

বার্মার আরাকান রাজ্যে সেনাবাহিনী, বার্মা পুলিশ এবং উগ্রবাদী কিছু বৌদ্ধ সন্ত্রাসী ২৫আগষ্ট থেকে সেনা অভিযানের নাম করে নিরীহ রোহিঙ্গাদের উপর আক্রমন করে।

এতে হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান নিহত হন। ধর্ষনের শিকার হন অসংখ্য রোহিঙ্গা মা-বোন।

অগণিত রোহিঙ্গা গুলিবিদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে  মৃত্যুবরণ করেছেন এবং অনেকেই কিছুটা সুস্থ হয়ে বর্তমানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

বর্মী সেনা, পুলিশ, উগ্রবাদী বৌদ্ধ সম্মিলিতভাবে রোহিঙ্গাদের উপর অত্যাচার নির্যাতন করলে এতে অতিষ্ট হয়ে প্রায় ৬লক্ষ  ২০হাজারের মত রোহিঙ্গা অধিবাসী বর্তমানে বাংলাদেশের কক্সবাজারে অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে রয়েছে।

এই পরিস্থিতিকে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস গণহত্যা উল্লেখ করে বিবৃতি দেন এবং অবিলম্বে এই সেনা অভিযানের নামে গণহত্যা বন্ধের আহ্বান জানান।

এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা সোচ্চার হন এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে।

বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের প্রতিনিধিগণ এই সমস্যা সমাধানের জন্য বাংলাদেশ এবং বার্মার ক্ষমতাসীন নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন বার্মার সামরিক বাহিনীকে তাদের দেশে আমন্ত্রণের উপর স্থগিতাদেশ দেন।

কিন্তু বার্মার সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং এবং সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ এসব বৈশ্বিক চাপের কোন কুন্ঠাবোধ না করে নানা সময় নানা ধরনের উদ্ভট মন্তব্য করতে থাকেন।

তিনি প্রথমদিকে রোহিঙ্গাদেরকে বাঙ্গালি হিসেবে অভিহিত করে  বলেছিলেন, “বাঙ্গালিরা বাংলায় চলে গেছে”।

এতে করে বুঝা যায় তারা রোহিঙ্গাদেরকে বাঙ্গালী হিসেবেই পরিচিতি দিতে চায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তারা রোহিঙ্গাদেরকে নানাভাবে চাপ দিয়ে এনভিসি নিতে বাধ্য করছে। রোহিঙ্গাদেরকে জিম্মি করে, ভয়ভীতি দেখিয়ে এনভিসি সহ ছবি তুলে বার্মা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ করছে যে রোহিঙ্গারা তাদের দেশের নাগরিক নয় বলেই তারা স্বেচ্ছায় এনভিসি নিচ্ছে।

এর পরেই বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বার্মা সফরের সময়েই বার্মা সরকারের এক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বার্মা বাংলাদেশকে কোন সময়সীমা দেয়নি।

এসময় বাংলাদেশ থেকে প্রদত্ত দশ দফা প্রস্তাবের কোন সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবই মেনে নেয়নি বার্মা।  উল্টো এর বীপরিত করে একটি প্রস্তাব পাঠায় বাংলাদেশের কাছে। যেটি বাংলাদেশের প্রদত্ত সমস্ত প্রস্তাবের সাথে সাংঘর্ষিক।

বার্মা-বাংলাদেশ এই আলোচনা চলার সময়েই বার্মার এক হেলিকপ্টার বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে বাংলাদেশ সীমান্তে ঢুকে পড়ে। মুলত বাংলাদেশকে উস্কে দিতেই এ ধরনের কাজ করা হয় যেন রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জন্য বার্মা- বাংলাদেশ যে আলোচনা  চলমান রয়েছে তা ভেস্তে দিতে পারে। এতেও তারা সফল হয়নি।

রোহিঙ্গারা যে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে সেখানেই বর্মী সীমান্তরক্ষী বাহিনী মাইন পুতে রাখে মাটিতে। যাতে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে প্রবেশের সময় এসব মাইনের বিস্ফোরনে মারা যান। কিছু রোহিঙ্গা মাটিতে পুতে রাখা এসব মাইনের বিস্ফোরনে নিহত হন।

এতেও বর্মী বাহিনী ক্ষান্ত নয়, বাংলাদেশে প্রবেশরত রোহিঙ্গা বোঝাই অনেক নৌকা নদীতে ডুবিয়ে দেয় তারা। এতে করে রোহিঙ্গা নারী, শিশু, বৃদ্ধ সহ কয়েকদিনের ব্যবধানে শতাধিক রোহিঙ্গা পানিতে ডুবে মারা যান।

এতে করে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বার্মার চূড়ান্ত বর্বরতা প্রকাশ পায়।

গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের থার্ড কমিটিতে বার্মার বিরুদ্ধে একটি রেজুলেশন পাশ হয়। কিন্তু বার্মার দাবী এ প্রস্তাব ত্রুটিপূর্ণ।

বার্মা রাষ্ট্রদূত হাউ দো সুয়ান প্রস্তাব সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন, খসড়া প্রস্তাবে যা কিছু বলা হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ রয়ে গেছে।

প্রস্তাবটি এক পক্ষের অভিযোগের উপর ভিত্তি করে আনা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এ প্রস্তাবের মাধ্যমে বার্মার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, এর মাধ্যমে বার্মার জনগণকে অপমান করা হয়েছে।

এছাড়া এ প্রস্তাব পাশ হবার পরেই বার্মা সেনাপ্রধান তার বক্তব্যে বলেন, বৌদ্ধরা না চাইলে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়া হবেনা। এবং বাংলাদেশে পরিবার সহ পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসী হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

এতে করে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে যায় যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন করা মোটেই সহজ হবেনা। তার এ বক্তব্যে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার বিষয়টি দীর্ঘায়িত হওয়ার একটি ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন তিনি।

আরো দেখুন

বার্মিজ সেনাপ্রধানের বিচারের দাবি ব্রিটিশ এমপিদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরাকান টিভি :  রোহিঙ্গা গণহত্যার দায়ে বার্মার সেনাপ্রধানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মুখোমুখি করার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *