Home » সংবাদ » আরাকানের খবর » তুলাতলীতে রোহিঙ্গা গণহত্যার প্রত্যক্ষ সাক্ষী মিনারা

তুলাতলীতে রোহিঙ্গা গণহত্যার প্রত্যক্ষ সাক্ষী মিনারা

 

শাহ্ জালাল, আরাকান টিভিঃ গ্রামের নাম তুলাতলী। এটি এমন একটি গ্রাম যেখানে বর্মী সেনাবাহিনীরা সর্বোচ্চ শক্তি প্রদর্শন করে রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতনের স্টীমরোলার চালিয়েছিল।

যে ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী মিনারা। নিজের উপর যেমন অবর্ণনীয় অত্যাচার হতে দেখেছে তেমনি দেখেছে নিজের চোখের সামনে মা, বাবা, ভাই, ভাবী, ভাইঝি, বোনসহ পরিবারের এতবড় সংখ্যক সদস্যকে সেনাবাহিনীর গুলিতে নৃশংসভাবে মরতে।

মিনারা বলেন, “সেনাবাহিনীর ধাওয়া খেয়ে আমরা চরের দিকে পালিয়ে যাই, সেনাবাহিনী ওখানে গিয়ে পুরুষ সদস্যদেরকে গুলি করে এবং কুপিয়ে হত্যা করে। ছোট্ট শিশুদেরকে হত্যা করে নদীতে ভাসিয়ে দেয়। এসময় আমার শরীরেও দুটি গুলি লাগে। সেনাবাহিনীরা ওখান থেকে মেয়েদের তুলে এনে প্রতি ঘরে চার পাঁচ জন করে নিয়ে এসে ঘরের ভেতরে নৃশংসভাবে ধর্ষণ করে। পরে সবাইকে গলা কেটে হত্যা করে। আমিও আগে থেকে গুলিবিদ্ধ হওয়ায় আমাকে মৃত মনে করে বাড়িতে রেখে চলে যায়”।
সেনাবাহিনীরা এতেই ক্ষান্ত হননি, তারা এক পাশ দিয়ে বের হয়ে অন্য পাশ থেকে বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। এসময় আমার হুশ ফিরে এলে কোনমতে হামাগুড়ি দিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে বাড়ির পাশের কচু ক্ষেতে ঢুকে পড়ি। প্রতিবেশিরা বাংলাদেশে চলে যাবার সময় আমাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেখতে পেঁয়ে বাংলদেশে নিয়ে এসে এখানকার এক সরকারী হাসপাতালে ভর্তি করে।

মিনারা আরো জানান, তাদের প্রতিবেশী চেমন খাতুন, খালেদা বেগম,হোছনে আরা, শাকেরা বেগম রেদুয়ান, খালেদ হোসেন, আবিয়া খাতুন, জুহুরা খাতুন, ছোরা খাতুন, ছৈয়দুল আমিন, জারু, নারু, নারুর তিন সন্তান এস্তফা, নুর কলিমা ও সাহেদা সহ আরো অনেক নাম না জানা মানুষ মিলিটারির হাতে খুন হয়।

নারী ও কিশোরীরা খুন হওয়ার পূর্বে গণধর্ষণের স্বীকার হয়।
বাংলাদেশে আসার সময় শত শত লাশ পড়ে থাকতে দেখেছি নদীর পাড়ে, ধানক্ষেতে, আইলের মধ্যে।ঘরের ভেতরও পুড়েগেছে অনেক লাশ।

মিনারা এখন বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে ছোট তিনভাই ও বোনদের নিয়ে অতিকষ্টে দিনযাপন করছে। তার বড় দুই ভাইয়ের হদীস এখনো পাওয়া যায়নি। সেদিনের ঘটনার কথা মনে হলে মিনারা ভয়ে আতকে উঠে। মাঝেমাঝে গুলি লাগা পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। ব্যথা নিমিষে ভুলে যান সেদিনের কথা মনে হলে।

তুলাতলি গ্রাম থেকে বেঁচে যাওয়া অনেকে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে অবস্থান করছে।

রোহিঙ্গাদের উপর অতীতে চলা গণহত্যার রেকর্ড ছাঁড়িয়ে গেছে ২৫ আগস্ট শুরু হওয়া গণহত্যা। তুলাতলি গ্রামের মত শত শত গ্রামে সংঘটিত হয় গণহত্যার মত জঘন্য ঘটনা। এসব গ্রাম এখন জনমানবশূণ্য।

আরো দেখুন

গ্রাম অবরোধ করে রোহিঙ্গাদের পালিয়ে যেতে বাধ্য করছে সৈন্যরা

হাসান হাফিজ, আরাকান টিভি :  উত্তর আরাকানে যেসব গ্রামে এখনো রোহিঙ্গারা রয়ে গেছে সেসব গ্রাম …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *