Home » প্রবন্ধ » বিশ্ব মানবাধিকার দিবস আজ, রোহিঙ্গারা এলিয়েন নয়!

বিশ্ব মানবাধিকার দিবস আজ, রোহিঙ্গারা এলিয়েন নয়!

সম্পাদকের কলম থেকে : 

আজ ১০ ডিসেম্বর। বিশ্ব মানবাধিকার দিবস। ১৯৪৮ সালের এই দিনে ফ্রান্সের প্যারিসে জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সার্বজনীন মানবাধিকার সনদ সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। সেই থেকে বিশ্বব্যাপী দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে।

দিবসটি উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা বাণি ও বিবৃতি দিয়েছে । র‌্যালী, সমাবেশ, আলোচনা, মিছিল করে মানবাধিকার সম্পর্কে বিভিন্ন মহল জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করছে । দৈনিকগুলো দিবস উপলক্ষে আলাদা ক্রোড়পত্র বের করছে । এসব আয়োজন থেকে বাদ নেই দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশ বার্মা ।

কিন্তু দিবস পালন করা আর দিবসের শিক্ষা বাস্তবায়নের মাঝে বিস্তর ফারাক রয়েছে বার্মা সরকারের । ইউনিয়ন অব বার্মার আরাকান রাজ্যের ইতোপূর্বে সংখ্যাগরিষ্ঠ রোহিঙ্গার রক্ত নিয়ে হুলি খেলায় মত্ত হওয়া সরকার মানুষ হিসেবেই মনে করেনা  এ জনগোষ্ঠিকে । যুগ যুগ ধরে তাদের নাগরিক অধিকার, মৌলিক অধিকার তথা মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত করে আসছে । অন্যায়ভাবে শাসন আর শোষন করে অতিষ্ট করে  তোলছে রোহিঙ্গার জনজীবন । সর্বশেষ ২০১৭ সালের ২৫ আগষ্ট গণহত্যা, গণধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ  ও বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে ৫ হাজার অধিক নিরীহ রোহিঙ্গাকে হত্যা করেছে । সরকারি বাহিনীর এ বর্বরতা থেকে বাঁচতে ৬ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা পালিয়েছে বাংলাদেশে । এতিম হতে হয়েছে ৩৮ হাজারেরও বেশি শিশুকে। ৫০ হাজারেও বেশি ঘরবাড়ি পুড়িয়ে ছাই করা হয়েছে ।  কয়েক লক্ষ গবাদি পশু ও হাজারা হাজার একর জমির ফসল লুট করেছে ক্ষমতাসীন সরকারের নিয়োজিত বাহিনী এবং তাদের লেলিয়ে দেয়া ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষি উগ্রপন্থী বৌদ্ধরা ।

রোহিঙ্গাদের জাতিগত নিধনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আলোচনা, উদ্বেগ, উৎকন্ঠা, আহ্বান, অনুরোধ ও নিন্দা জানানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছে । নিকট অতীতের এ ভয়াবহ ঘটনায়  কোন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বক্তৃতার  টেবিলে হাত চাপড়ানো ও মুখে খই ফুটানো মানবাধিকার কর্মকর্তারা । বস্তুতঃ দিন যতই গড়াচ্ছে ততই চলিতেছে সার্কাস ।

মানবাধিকার প্রত্যেক মানুষের জন্মগত মৌলিক অধিকার। প্রতিটি দেশের সংবিধানেও এটি সংরক্ষণের কথা বলা আছে। মানুষের প্রতি মানুষের কর্তব্য-দায়িত্ব সর্বোপরি মানবতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনই মানবাধিকার ঘোষণার মূল মন্ত্র। অথচ নৃমংসভাবে রোহিঙ্গা নিধনের ঘটনায়  বার্মা সরকারের অপরাধ সাব্যস্থ হলেও নির্বিকার বিশ্ব ।

বস্তুতঃ এই দিবসে ঘটা করে যতটা আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়; তার সামান্যতম অংশও বাস্তবায়িত হলে বিশ্ব থেকে নির্বাসিত হতো বিচারবহির্ভূত হত্যা, শিশু ও নারী নির্যাতন, সন্ত্রাস, ছিনতাই, রাহাজানিসহ হাজারো অপরাধ। মানুষকে তার অধিকার বিষয়ে সচেতন করা গেলে এবং অধিকার লঙ্ঘিত হলে প্রতিকার লাভের উপায় সম্পর্কে সচেতন করা গেলে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভবপর হতে পারে। মানুষের অধিকার রক্ষায় ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে আপামর জনসাধারণের সক্রিয় ও সোচ্চার হওয়ার সময় এসেছে।

পরিশেষে , বিশ্ববাসীর দৃষ্টি যেন রোহিঙ্গা অধিকার বাস্তবায়নের দিকে থাকে এবং যথাযথ ভূমিকা পালন করে সে আশাবাদ । বিশ্ববাসীরা যেন কোনভাবেই রোহিঙ্গাদের ভিনগ্রহের এলিয়েন না ভাবে ।

 

আরো দেখুন

বার্মিজ সেনাপ্রধানের বিচারের দাবি ব্রিটিশ এমপিদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরাকান টিভি :  রোহিঙ্গা গণহত্যার দায়ে বার্মার সেনাপ্রধানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মুখোমুখি করার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *