Home » Breaking News » ১৩০০ রোহিঙ্গাকে ‘সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী’ হিসেবে বাংলাদেশকে তালিকা দিয়েছে বার্মা
২০১৬ সালের ৯ অক্টোবরের পর এক রোহিঙ্গাকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে মৃত্যুদন্ড দেয় বার্মা । ফাইল ফটো ।

১৩০০ রোহিঙ্গাকে ‘সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী’ হিসেবে বাংলাদেশকে তালিকা দিয়েছে বার্মা

হাসান হাফিজ, আরাকান টিভি : 

আরাকানে সেনাবাহিনীর তান্ডব থেকে প্রাণে রক্ষা পেতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মধ্যে ১৩০০ জনকে ‘সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী’ উল্লেখ করে তাদেরকে ধরিয়ে দিতে বাংলাদেশের কাছে তালিকা পাঠিয়েছে বার্মা সরকার । তালিকায় উল্লেখিতদের আরাকান স্যালভেশান আর্মি (আরসা)’র সদস্য হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে ।

বার্মার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে গণমাধ্যম মিজিমা । এতে বলা হয়, ১৯৮০ সালের বার্মা-বাংলাদেশ সীমান্ত চুক্তি অনুযায়ী সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের হস্তান্তর করতে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

বার্মা সরকার শুরু থেকে রোহিঙ্গাদের ‘বাঙ্গালী’ এবং স্বাধিকারের জন্য আন্দোলনকারীদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে আসছে । গত বছরের আগস্টের শেষ সপ্তাহে শুরু হওয়া সেনাবাহিনীর রোহিঙ্গা কিলিং অপারেশনে যারা হত্যার শিকার হয়েছে তাদেরকেও সন্ত্রাসী হিসেবে বর্ণনা করে সরকার । মায়ের কোলের যেসব শিশুকে হত্যা করা হয়েছে তারাও বাদ যায়নি ‘সন্ত্রাসী’  অপবাদ থেকে ।

বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে গত বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশ ও বার্মার মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়।  ডিসেম্বরে দুই দেশের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়। চলতি মাসের ১৫ তারিখ যৌথ কমিটির বৈঠকে ২ বছরের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিবে বলে আশ্বাস দেয় বার্মা । একই সাথে কথিত রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় নিবে বলে জানিয়েছে ।

এদিকে বাংলাদেশের ক্যাম্পের রোহিঙ্গারা এ মূহুর্তে বার্মায় ফিরে আসতে নারাজী জাহির করেন । তারা জানান, বার্মার মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেনি । এখনো রোহিঙ্গারা গুপ্ত হত্যার শিকার হচ্ছে । রোহিঙ্গাদের বাড়িঘরে আগুন দিচ্ছে । নিজেদের অপরাধ স্বীকার করছেনা সেনা প্রশাসন । তদুপরী সন্ত্রাসী হিসেবে শত শত রোহিঙ্গার তালিকা তৈরী করেছে । রোহিঙ্গাদের অধিকার ও ক্ষতিপূরণ দেয়ার নিশ্চয়তাও দেয়নি বার্মা । এ মূহুর্তে আরাকানে ফিরে যাওয়া সম্ভব না ।

ক্যাম্পের একাধিক রোহিঙ্গা আরাকান টিভিকে তাদের ভয়ের কথা জানান। রোহিঙ্গারা বলেন,  ফিরে গেলে নিশ্চিত মেরে ফেলবে আমাদের । সব রোহিঙ্গা পুরুষকে তারা ‘আরসা’ হিসেবে সাব্যস্থ করে কারাবন্দি করতে পারে । নয়তো ব্রাশ ফায়ার করতে পারে । বার্মা সরকারকে বিশ্বাস করতে পারছিনা আমরা । তা ছাড়া আমরা আমাদের দেশে ক্যাম্পে থাকতে চাইনা ।

উল্লেখ্য, গত বছরের আগষ্টের শেষ সপ্তাহে বর্মী বাহিনী রাথিদং এলাকায় তান্ডব শুরু করে । চৌপ্রাং নামক গ্রামের প্রায় ২শো রোহিঙ্গা পুরুষকে ধরে নিয়ে যায় পথিমধ্যে দু’একজনকে হত্যা করে । ফলে ২৫ আগষ্ট রাতে রোহিঙ্গা স্বাধিকার আন্দোলনের নেতা কর্মীরা বর্মী বাহিনীকে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করে । এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সরকারি বাহিনী সাধারণ রোহিঙ্গাদের উপর তান্ডব শুরু করে । গণহত্যা, ধর্ষণ, উচ্ছেদ, অগ্নিসংযোগ, লুটপাটের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের জাতিগত নিধন চালায় । এতে অন্তত ১০ হাজার রোহিঙ্গা হত্যার শিকার হয় । অগণিত নারী ধর্ষণের শিকার হয় । সেনাবাহিনীর সদস্যদের নগ্ন থাবা থেকে বাঁচতে পারেনি কন্যা শিশুরাও । প্রায় ৬০ হাজার বাড়িঘর আগুন দিয়ে ভষ্মিভূত করে । সাত লাখ রোহিঙ্গা পাহাড়, জঙ্গল, নদী, সমুদ্রের দূর্গম পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় । পালানোর সময় অনাহারে-অর্ধহারে থেকে, রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে, এবং নৌকা ডুবে প্রায় ৫’শ রোহিঙ্গা মারা যায় । জাতিসংঘ এটিকে পাঠ্যপুস্তকে উল্লেখযোগ্য গণহত্যার উদাহরণ হিসেবে ব্যাখ্যা করে ।

আরো দেখুন

বার্মিজ সেনাপ্রধানের বিচারের দাবি ব্রিটিশ এমপিদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরাকান টিভি :  রোহিঙ্গা গণহত্যার দায়ে বার্মার সেনাপ্রধানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মুখোমুখি করার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *