Home » Breaking News » রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে দুই মাস লাগতে পারে

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে দুই মাস লাগতে পারে

নিউজ ডেস্ক, আরাকান টিভি : রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু করতে দুই মাস সময় লাগতে পারে। কারণ এ পর্যন্ত বাংলাদেশ যে ১০ লাখ রোহিঙ্গার বায়োমেট্রিক নিবন্ধন করেছে, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর জন্য এ তথ্য যথেষ্ট নয় বলে মত দিয়েছে বার্মা।   প্রতিটি পরিবারকে একটি ইউনিট ধরে রোহিঙ্গাদের তথ্য চেয়েছে বার্মা সরকার ।

গত বছরের ২৩ নভেম্বর  রাজধানী নেপিদোতে ‘অ্যারেঞ্জমেন্ট অন রিটার্ন অব ডিসপ্লেসড পারসন ফ্রম রাখাইন স্টেট’ শীর্ষক চুক্তি স্বাক্ষর করে বার্মা ও বাংলাদেশ। চুক্তির ১৩নং ধারা অনুযায়ী গত ২৩ জানুয়ারি থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর কথা ছিল। কিন্তু পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকায় সেটি শুরু হয়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলা-বার্মা চুক্তি সাপেক্ষে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ । এ মূহুর্তে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন না করতে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিভিন্ন রাষ্ট্র । এছাড়া মানবাধিকার ও শরণার্থী বিষয়ক সংস্থাগুলো প্রত্যাবাসনের আগে রোহিঙ্গাদের অধিকার ও নিরাপত্তা চেয়েছে ।

এদিকে যাদের নিয়ে এত আলোচনা, সেই রোহিঙ্গারাও নাগরিক অধিকার ছাড়া বার্মায় ফিরে যেতে চাইছেনা ।

বাংলাদেশের শরণার্থী ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক কমিশনার আবুল কালাম বলেন, একটি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য প্রস্তুতির কয়েকটি ধাপ আছে। একটি ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। এখন বাকিগুলো শেষ হলেই প্রত্যাবাসন শুরু হবে।

প্রতিটি পরিবারকে একটি ইউনিট ধরে ফেরত নেবে বার্মা। তবে রোহিঙ্গাদের পরিবারভিত্তিক তথ্য বাংলাদেশের কাছে নেই। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর রোহিঙ্গাদের পরিবারভিত্তিক গণনা করেছে। সংস্থাটি এ পর্যন্ত ১ লাখ ৭৫ হাজার ৯২৯টি পরিবারের ৭ লাখ ৬১ হাজার ৩২৮ শরণার্থীকে গণনায় আনতে পেরেছে, যা মোট শরণার্থীর ৭২ শতাংশ। এদিকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণভাবে ইউএনএইচআরকে যুক্ত করছে। এ জন্য একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। যেহেতেু বাংলাদেশের কাছে পরিবারভিত্তিক তথ্য নেই, এ জন্য তথ্য বিনিময় করতেই এই চুক্তি হচ্ছে।

ইউএনএইচসিআর সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ৪ অক্টোবর থেকে পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ শুরু করে সংস্থাটি। সংস্থার সদস্যরা তথ্য সংগ্রহ করার পাশাপাশি পরিবারভিত্তিক একটি করে একক নম্বরযুক্ত কার্ডও বিতরণ করেছে। আর এ কার্ড নম্বরের মাধ্যমে পরিবারভিত্তিক গণনাসহ ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর সুনির্দিষ্ট চাহিদা চিহ্নিত করায় ত্রাণ প্রদানে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে।

সংস্থাটি জানায়, ২০১৭ সালের ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭ লাখ ৬১ হাজার ৩২৮ জন রোহিঙ্গাকে গণনার আওতায় আনা হয়েছে। তাদের পরিবারের সংখ্যা ১ লাখ ৭৫ হাজার ৯২৯টি। আর ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে আগত ৬ লাখ ৪০ হাজার ২৬৯ রোহিঙ্গার পরিবারের সংখ্যা ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৫৮টি। তবে এ গণনায় কুতুপালং ও বালুখালিতে ইউএনএইচসিআরের আগের ক্যাম্পের ৩৩ হাজার ৫৩৮ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

 

আরো দেখুন

বার্মিজ সেনাপ্রধানের বিচারের দাবি ব্রিটিশ এমপিদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরাকান টিভি :  রোহিঙ্গা গণহত্যার দায়ে বার্মার সেনাপ্রধানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মুখোমুখি করার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *