Home » Breaking News » মংডুর দংখালীতে ফের সেনা অভিযান :  গুলি, আতঙ্ক, পলায়ন
শনিবার বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রিত একদল রোহিঙ্গা

মংডুর দংখালীতে ফের সেনা অভিযান :  গুলি, আতঙ্ক, পলায়ন

হাসান হাফিজ, আরাকান টিভি : 

গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে মংডুর দংখালীতে ফের অভিযান শুরু করেছে বর্মী সেনাবাহিনী । কয়েক প্লাটুন সৈন্য দংখালী ও আশে-পাশের এলাকা ঘিরে রোহিঙ্গা লোকালয় লক্ষ্য করে বৃষ্টির ফোটার মত গুলি করে । এসময় আতঙ্কে রোহিঙ্গারা দিক-বিদিক ছুটে পালায় । ভয়ে গ্রামটির অর্ধ-শতাধিক রোহিঙ্গা পালিয়েছে বাংলাদেশে ।

সূত্র জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী গ্রাম দংখালীতে যখন সেনাবাহিনী গুলি চালায়, তখন বাংলাদেশের সীমান্তের বাসিন্দারা গুলির আওয়াজ শুনতে পায় । এতে তারাও ভয় পেয়ে যায় । সীমান্তের বাংলাদেশীরা জানিয়েছে, তারা দংখালী গ্রাম থেকে থেমে থেমে গুলির শব্দ শুনেছে । কিছুক্ষণ পর অদূরে ধোঁয়ার কুন্ডলী আর মানুষের হৈ চৈ শুনে ।

এদিকে প্রাণ বাঁচাতে যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশ উপকূলে পালিয়েছে, তাদের একটি দল আজ শনিবার উখিয়ার বালুখালী টিভি টাওয়ার এলাকায় পৌঁছেছে বলে জানাগেছে । সদ্য শরণার্থী হওয়া সেসব রোহিঙ্গার উদ্ধৃতি দিয়ে আরাকান টিভি’র ক্যাম্প সংবাদদাতা জানিয়েছে, দংখালীতে শুক্রবারের আগের রাত থেকে অভিযান শুরু করে মিলিটারী (সেনা) । সৈন্যরা ভারি অস্ত্র শস্ত্র সজ্জিত ছিল । রাতে এলাকা ঘেরাও করলেও, মূল অভিযান শুরু করে শুক্রবার সকালে । সেনাদের আক্রমণের খবর পেয়ে গ্রামের রোহিঙ্গারা দোয়া-দরুদ ও তসবীহ তাহলিল যপছিল রাতভর । সকালে গুলাগুলি শুরু হলে রোহিঙ্গারা ছত্রভঙ্গ হয়ে প্রাণ পণে ছুটে পালায় । এসময় পাহাড়ি পথে অনেকে নদী কিনারায় পৌঁছতে সক্ষম হয় । ভয়ার্ত রোহিঙ্গারা নৌকাযোগে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশ পৌঁছে ।

বার্মা সরকার একদিকে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার কথা বলছে, আর অন্যদিকে অভিযানের নাম করে রোহিঙ্গাদের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য করছে । রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য তুম্ব্রু ও নাগফুরাতে কয়েকটি ক্যাম্প নির্মাণ করেছে প্রশাসন । এসব ক্যাম্পের ২০ ফুট দূরে চারিদিকে কাঁটাতারের বেড়া । রোহিঙ্গারা ক্যাম্পে ফিরতে ইতিমধ্যে নারাজী জাহির করছে । জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী তথাকথিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ।

বলাবাহুল্য, গত বছরের আগষ্টের শেষ সাপ্তাহে বর্মী বাহিনী অভিযান শুরু করলে উত্তর আরাকান থেকে লাখ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় । ১০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে এ অভিযানে হত্যা করে গণকবর দেয় সৈন্যরা । অগণিত নারী সৈন্যদের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছে । ইতিমধ্যে কয়েকটি গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে । এর মধ্যে মাত্র ১০ জনকে হত্যার দায় স্বীকার করলেও, বাকিগুলো অস্বিকার করছে বার্মা সরকার ।

আরো দেখুন

বার্মিজ সেনাপ্রধানের বিচারের দাবি ব্রিটিশ এমপিদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরাকান টিভি :  রোহিঙ্গা গণহত্যার দায়ে বার্মার সেনাপ্রধানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মুখোমুখি করার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *