Home » Breaking News » রয়টার্সের প্রতিবেদন প্রকাশের পরেই লোকদেখানো গ্রেপ্তার করেছে বার্মা

রয়টার্সের প্রতিবেদন প্রকাশের পরেই লোকদেখানো গ্রেপ্তার করেছে বার্মা

 

অনলাইন ডেস্ক, আরাকান টিভিঃ ইন দিনে দশ রোহিঙ্গাকে নির্মমভাবে হত্যা করে কবর দেওয়ার ঘটনায় রয়টার্সের প্রতিবেদনের পর এ সম্পর্কে মুখ খুলতে শুরু করেছে বার্মা।

বার্মা সরকারের মুখপাত্র জো হেতেয় বলেন, এ ঘটনায় জড়িত ৭সেনাসদস্য, ৩জন পুলিশসহ ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেনা তদন্তের উপর ভিত্তি করেই এদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইন অনুসারে দোষীদেরকে বিচারের আওতায় আনা হবে। তবে এ পদক্ষেপের ক্ষেত্রে রয়টার্সের প্রতিবেদনের কোনো যোগসূত্র নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাখাইন রাজ্যের ইন ডিন গ্রামে বৌদ্ধ প্রতিবেশী ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ১০ জন রোহিঙ্গাকে ধরে এনে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে ও গুলি করে হত্যার পর গণকবর দিয়েছে।

বার্মা সরকার রয়টার্সের প্রতিবেদনকে অস্বীকার করলেও মূলত এই প্রতিবেদনের মাধ্যমেই বার্মা সরকার ইন দিনের দশ নিরীহ রোহিঙ্গাকে হত্যায় সেনাবাহিনীর জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।

গত ১০জানুয়ারি বার্মা সামরিক বাহিনী জানায়, ওই ১০ রোহিঙ্গা সেনাসদস্যদের ওপর হামলাকারী ২০০ জনের একটি ‘সন্ত্রাসী’ দলের সদস্য ছিলেন। ওই সময় গ্রামবাসীর মধ্যে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজন কয়েকজনকে তলোয়ার দিয়ে এবং সেনাসদস্যরা গুলি করে হত্যা করে। তবে সামরিক বাহিনীর এ বক্তব্যের সঙ্গে বৌদ্ধ ও রোহিঙ্গা প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি। ঐ এলাকার বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজন জানিয়েছেন, ইন ডিনে সেনাবাহিনীর ওপর এত বিপুলসংখ্যক বিদ্রোহীদের হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি। রোহিঙ্গা প্রত্যক্ষদর্শীরা রয়টার্সকে জানিয়েছে, নিরাপত্তার জন্য সৈকতের কাছে আশ্রয় নেওয়া শত শত নারী-পুরুষ ও শিশুদের মধ্য থেকে ওই ১০ জন রোহিঙ্গাকে তুলে আনা হয়।

রয়টার্সের অনুসন্ধানী এ রিপোর্টের সূত্র ধরেই গ্রেপ্তার করা হয় বার্তা সংস্থাটির দুই সাংবাদিককে। বার্মার নাগরিক দুই সাংবাদিক হলেন ওয়া লোন এবং কেয়াও সো উ। রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য সংগ্রহের অভিযোগে গত ১২ ডিসেম্বর তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

বার্মা যতই এই প্রতিবেদনকে অস্বীকার করুক না কেন রয়টার্সের এই দুই সাংবাদিকের কারনেই মূলত তারা ইন দিনের ঘটনার সাথে সেনাবাহিনীর জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। রয়টার্সের সাংবাদিক গ্রেপ্তারের ঘটনা প্রকাশ্যে না এলে বার্মা এ বিষয়ে কখনো মুখ খুলতোনা। বৈশ্বিক চাপের কারনেই বার্মা এখন গ্রেপ্তার নাটক সাজাচ্ছে।

ইন ডিনের এই গণহত্যা বিষয়ে রয়টার্সের কাছে বার্মার বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রমাণ থাকায় এখন সুর নরম করছে বার্মা। প্রতিবেদন প্রকাশের একদিন আগে বার্মা সরকারের মুখপাত্র জো হেতেয় বলেছিলেন, ‘আমরা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করছি না। ঘটনা অস্বীকার করে সত্য আড়াল করছি না। যদি নির্যাতনের ব্যাপারে ‘অকাট্য ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ’ থাকে, তাহলে সরকার তা তদন্ত করবে।

গত বছরের আগষ্ট মাসে বার্মার আরাকান রাজ্যজুড়ে ইন দিনের ঘটনার মত রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা অভিযান শুরু করে। যার ফলশ্রুতিতে ৬লক্ষ ৯০হাজার রোহিঙ্গা বর্তমানে বাংলাদেশে শরণার্থি হিসেবে আশ্রয় নিয়েছে।

আরো দেখুন

বার্মিজ সেনাপ্রধানের বিচারের দাবি ব্রিটিশ এমপিদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরাকান টিভি :  রোহিঙ্গা গণহত্যার দায়ে বার্মার সেনাপ্রধানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মুখোমুখি করার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *