Home » সংবাদ » শরণার্থীদের খবর » উগ্রপন্থা ও রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ওআইসিকে পাশে চায় বাংলাদেশ

উগ্রপন্থা ও রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ওআইসিকে পাশে চায় বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্কঃ ধর্মীয় উগ্রপন্থা এবং রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ওআইসি জোটসহ মুসলিম দেশগুলোকে পাশে চায় বাংলাদেশ।

স্পর্শকাতর দুই ইস্যুতে মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে বড় জোট অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি)’র বরাবর সহযোগিতা পেয়ে আসছে বাংলাদেশ। আগামী দিনগুলোতে ওই দুই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৈশ্বিক সংস্থা বিশেষত ওআইসির আরো ঘনিষ্ঠতা এবং সক্রিয়তা আশা করছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি মাসের সমাপনীতে ওআইসির একটি উচ্চ পর্যায়ের সভায় অংশ নিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক জেদ্দা যাচ্ছেন। সেখানে তার সফরটি হবে চার দিনের।

সফরকালে পররাষ্ট্র সচিব ওআইসি’র পূর্বনির্ধারিত (৩০শে এপ্রিল-২রা মে) উচ্চ পর্যায়ের সভার বিভিন্ন সেশনে যোগদানের পাশাপাশি সাইড লাইনে অংশগ্রহণকারী মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময় করবেন।

কর্মকর্তারা জানিয়েছে, জেদ্দার সভায় কাউন্সিল অব ফরেন মিনিস্টারস বা পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বাৎসরিক আয়োজনের এজেন্ডাসহ অন্যান্য প্রস্তুতি চূড়ান্ত হবে। আগামী জুলাইতে আফ্রিকার দেশ আইভরিকস্টের বন্দরনগরী আবিদজান-এ মন্ত্রীদের সেই বৈঠক হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সভা নিয়ে ৩০শে এপ্রিল থেকে ২রা মে পর্যন্ত জেদ্দা বৈঠকে সিরিজ আলোচনা হবে। ওই সব আলোচনায় পররাষ্ট্র সচিবের নেতৃত্বে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা অংশ নেবেন এবং দেশের অবস্থা ও অবস্থান তুলে ধরবেন। ২০১৮ সালে ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পরবর্তী বৈঠকটি ঢাকায় হবে জানিয়ে সেগুনবাগিচার এক কর্মকর্তা সোমবার মানবজমিনকে বলেন, ঢাকায় প্রস্তাবিত ফরেন কাউন্সিল অব ফরেন মিনিস্টার্স বা পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের প্রস্তুতির জন্যও এবারের বৈঠকের প্রস্তুতি পর্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সক্রিয় সম্পৃক্ততা জরুরি।

সেই প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা-বোঝা এবং আলোচ্যসূচি চূড়ান্তকরণে বাংলাদেশের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দেয়ার অনেক কিছু রয়েছে। বিশেষ করে বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে ধর্মীয় উগ্রপন্থার সম্ভাব্য উত্থান চেষ্টা মোকাবিলায় মুসলিম দেশগুলোর যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে। মডারেট বা উদার মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ অত্যন্ত কঠোরভাবে ওই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে চলেছে। উগ্রপন্থা মোকাবিলায় ওআইসির বিভিন্ন উদ্যোগেও বাংলাদেশ অগ্রণী ভূমিকায় রয়েছে উল্লেখ করে সেগুনবাগিচার ওই কর্মকর্তা বলেন, ওআইসি ও সৌদি আরবের উদ্যোগে রিয়াদে সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ মোকাবিলায় মুসলিম বিশ্বের যে জোট গঠিত হয়েছে বাংলাদেশ তার প্রথম দিকের সমর্থনকারী রাষ্ট্রের অন্যতম।

রিয়াদে প্রতিষ্ঠিত সন্ত্রাসবাদ বিরোধী সেন্টারের সঙ্গে তথ্য-আদান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতায় সক্রিয় রয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া মুসলমানদের পবিত্রস্থান কাবা শরীফ এবং মসজিদে নববী সন্ত্রাসের হুমকিতে আক্রান্ত হলে বাংলাদেশ সেনা পাঠানোর আগাম ঘোষণা দিয়ে রেখেছে।

সরকারি ওই কর্মকর্তার সরবরাহ করা তথ্য মতে, বার্মার রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত আক্রমণ এবং তাদের পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন সীমান্তের দিকে ঠেলে দেয়ার যে কৌশল বর্মীরা নিয়েছে সে বিষয়টি ওআইসির বৈঠকে আরো জোরালোভাবে তুলতে চায় ঢাকা। বছরের পর বছর ধরে কয়েক লাখ বার্মার নাগরিক বাংলাদেশে অস্থায়ী আশ্রয়ে রয়েছে।

সামপ্রতিক সময়ে নতুন করে আরো প্রায় ৭০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। জলবহুল বাংলাদেশ মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিলেও এ সংকটের একটি স্থায়ী সমাধানে বিশ্ব নেতৃত্ব বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বে তরফে যাতে বার্মার ওপর চাপ বাড়ানো যায় সে জস্য ওআইসির আরো সক্রিয়তা চায় বাংলাদেশ।

ওআইসি’র সিনিয়র অফিসিয়াল মিটিং বা জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের আসন্ন বৈঠক এবং বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব গত সোমবার বিকালে নিজ দপ্তরে মানবজমিনকে বলেন, হ্যাঁ, যা শুনছেন তাই। এ মাসের শেষের দিকে আমি জেদ্দা যাচ্ছি। সেখানে ওআইসির কার্যক্রম বিশেষ করে আসন্ন মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের এজেন্ডা চূড়ান্ত করাসহ অন্যান্য প্রস্তুতির আলোচনায় অংশ নেবো।

পরবর্তী বছরে (২০১৮ সালে) বাংলাদেশ ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের আয়োজক রাষ্ট্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে উল্লেখ করে সচিব বলেন, চলতি বছরের বৈঠকের ধারাবাহিতায় পরবর্তী আয়োজনটি হবে। এ জন্য এখন থেকে ওআইসির বৈঠক এবং অন্যান্য কার্যক্রমে বাংলাদেশের আরো সক্রিয়তা এবং ঘনিষ্ঠতা জরুরি। আসন্ন বৈঠকের পর ওআইসির নবনিযুক্ত মহাসচিব ড. ইউসুফ বিন আহমেদ আল আল ওথাইমিন বাংলাদেশ সফর করতে পারেন বলেও আভাস দেন সচিব।

বলেন, নতুন মহাসচিবকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আশা করি আগামী মাসে তার সফরটি হতে পারে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের পরবর্তী বৈঠকের হোস্ট কান্ট্রি হিসেবেও তার বাংলাদেশ সফরটি অগ্রাধিকারে থাকবে বলে মনে করি।

আরো দেখুন

রোহিঙ্গা পুনর্বাসনে ৮০০ কোটি টাকার সহায়তা দিচ্ছে এডিবি

ঢাকা, আরাকান টিভি: প্রতিবেশী দেশ বার্মা থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জন্য ৮০০ কোটি টাকার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *